ইরান-নিয়ন্ত্রিত হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে হেলিকপ্টারটির দুই ক্রু সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে সুস্থ ও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (৯ জুন) মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, দুর্ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি ড্রোন পানিতে দুই ক্রু সদস্যের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে উদ্ধারকারী দল প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
দুর্ঘটনার কারণ এখনো অজানা
হেলিকপ্টারটি কী কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এটি কোনো হামলার শিকার হয়েছিল কি না, নাকি যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “পাইলটরা ভালো আছেন। কেউ আহত হননি। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে এবং পরে বিস্তারিত জানানো হবে।”
যুদ্ধবিরতির পর নতুন পরিস্থিতি
এদিকে ইরান ও ইসরাইল উভয় দেশই জানিয়েছে যে, ট্রাম্পের আহ্বানের পর তারা পারস্পরিক হামলা বন্ধ করেছে এবং ৮ এপ্রিল ঘোষিত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি পুনরায় কার্যকর হয়েছে।
তবে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, সাম্প্রতিক ইসরাইলি হামলায় তাদের দুই বিমান প্রতিরক্ষা সদস্য নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের পাল্টা হামলার পর ইসরাইলের পক্ষ থেকে কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
তেলের বাজারে প্রভাব
হামলা-পাল্টা হামলার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও যুদ্ধবিরতির খবরের পর মঙ্গলবার সেই মূল্যবৃদ্ধির বড় অংশ কমে যায়।
তবে ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, লেবাননে তাদের মিত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইল নতুন করে সামরিক অভিযান চালালে সংঘাত আবারও বিস্তৃত হতে পারে।
লেবাননে নতুন সতর্কতা
মঙ্গলবার ইসরাইলি সেনাবাহিনী লেবাননের উপকূলীয় শহর টাইরের বাসিন্দাদের জন্য সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে। ইসরাইলের দাবি, ওই এলাকায় হিজবুল্লাহর সদস্যরা সক্রিয় রয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং যেকোনো মুহূর্তে উত্তেজনা নতুন মোড় নিতে পারে।
