স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যবস্থায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার থাকছে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টারবিহীন প্রচারণা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে ইতোমধ্যে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।
অনলাইনে মনোনয়ন ও ইভিএম থাকছে না
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিমালার সংশোধনের মাধ্যমে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বর্তমান বিধান বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে ইভিএম ব্যবহারের নিয়মও বাদ দেওয়া হচ্ছে।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে কোনো দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না।
বর্তমানে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেটিও বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাড়তে পারে জামানতের পরিমাণ
উপজেলা নির্বাচন ছাড়া স্থানীয় সরকারের অন্যান্য স্তরের নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর চিন্তা করছে নির্বাচন কমিশন। যদিও কতটা বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এছাড়া প্রবাসী ভোট বা পোস্টাল ভোটের সুযোগ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকছে না বলেও জানিয়েছেন কমিশনার।
তিনি আরও বলেন, পলাতক আসামিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় চার্জশিটভুক্ত কেউ প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাবেন না।
জুনের মধ্যেই চূড়ান্ত হতে পারে বিধিমালা
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের পর সংশোধিত বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করা হতে পারে। জুন মাসের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
কমিশনের আশা, চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা সম্ভব হবে।
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য চারটি বিষয়ের ওপর জোর
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কথা উল্লেখ করেন।
তার মতে—
- সরকারের নিরপেক্ষ অবস্থান
- রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ
- নির্বাচন কমিশনের দৃঢ়তা
- নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সততা ও পেশাদারিত্ব
—এই চারটি বিষয় নিশ্চিত করা গেলে সহিংসতামুক্ত নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না; রাজনৈতিক দলগুলোকেও সংঘর্ষ, সহিংসতা ও উত্তেজনা থেকে দূরে থাকতে হবে।
একই সঙ্গে নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনের কথাও জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অনিয়ম ধরা পড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী ভোটকেন্দ্র বন্ধসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা কমিশনের হাতে রয়েছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
