
ইসলামে সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য Eid al-Adha উপলক্ষে কোরবানি আদায় গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কোরবানির পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সুস্থ ও ত্রুটিমুক্ত পশুকে প্রাধান্য দিতে বলা হয়েছে। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে— শিং ভাঙা পশু দিয়ে কোরবানি করা যাবে কি না।
ইসলিামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কোরবানির জন্য এমন পশু নির্বাচন করতে হবে যেটি বড় ধরনের শারীরিক ত্রুটিমুক্ত। হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, সুস্পষ্ট অন্ধ, মারাত্মক অসুস্থ, খোঁড়া কিংবা অতিরিক্ত দুর্বল পশু দিয়ে কোরবানি আদায় শুদ্ধ হয় না।
তবে শিং ভাঙার বিষয়ে ইসলামি ফিকহে কিছু বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে। ইসলামি গবেষণা ও ফিকহভিত্তিক গ্রন্থগুলোতে বলা হয়েছে, যদি কোনো পশুর শিং আংশিক ভাঙা থাকে অথবা জন্মগতভাবেই শিং না থাকে, তাহলে সেই পশু দিয়ে কোরবানি করা জায়েজ।
কিন্তু যদি শিং গোড়া থেকে এমনভাবে ভেঙে যায় যে মস্তিষ্কে আঘাত লাগে বা পশুর স্বাভাবিক অবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে সেই পশু কোরবানির উপযুক্ত থাকবে না।
ফিকহবিদদের মতে, নিচের অবস্থাগুলোতে কোরবানি জায়েজ হবে—
- পশুর শিং আংশিক ভাঙা
- শিং ফেটে যাওয়া
- ছোট বা অসম্পূর্ণ শিং থাকা
- জন্মগতভাবে শিং না থাকা
অন্যদিকে, শিং গোড়া থেকে ভেঙে গিয়ে মস্তিষ্কে ক্ষতি হলে সেই পশু দিয়ে কোরবানি করা বৈধ নয়।
এ বিষয়ে Sunan Ibn Majah, Jami at-Tirmidhi, Sunan Abi Dawud এবং বিভিন্ন ফিকহগ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা পাওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞ আলেমদের পরামর্শ হলো, কোরবানির পশু কেনার সময় পশুর স্বাস্থ্য, চলাফেরা, দৃষ্টিশক্তি ও শারীরিক অবস্থা ভালোভাবে পরীক্ষা করা উচিত, যাতে ইবাদতটি সহিহভাবে আদায় করা যায়।