
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব Nasimul Ghani–এর নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তিন ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের চিন্তা করা হচ্ছে। প্রথম দুই অর্থবছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ করে বৃদ্ধি এবং তৃতীয় ধাপে বিভিন্ন ভাতা সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্প্রতি সচিবালয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেট নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়। বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী Amir Khasru Mahmud Chowdhury, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর Md. Mostakur Rahman এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছর থেকেই নতুন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, রাজস্ব ঘাটতি এবং বাজেট সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত নতুন কাঠামো অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বর্তমান সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আগের মতোই ২০টি গ্রেড বহাল থাকবে। এছাড়া সচিব ও সিনিয়র সচিবদের জন্য অতিরিক্ত একটি বিশেষ ধাপ রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।
মূল বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতার অঙ্কও বাড়বে। বর্তমানে বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হলেও তা বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া যাতায়াত ভাতা আরও বিস্তৃত পরিসরে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
পেনশনভোগীরাও নতুন কাঠামোর আওতায় বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন। বিশেষ করে কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে শতভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বয়সভিত্তিক চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ বাস্তবসম্মত হলেও এর সঙ্গে প্রশাসনিক দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি। অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও সরকার কীভাবে এই ব্যয় সামাল দেবে, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।