যুদ্ধবিরতির পর আবারও ইরানকে ঘিরে বড় ধরনের সামরিক প্রস্তুতি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই সম্ভাব্য এই অভিযান চালানো হতে পারে।
মার্কিন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ইরানের ভূগর্ভে বা ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও পারমাণবিক উপাদান উদ্ধার করা। এজন্য বিশেষ কমান্ডো বাহিনী মোতায়েনের চিন্তা করা হচ্ছে, যদিও এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল অপারেশন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন অভিযানে বড় পরিসরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে হতে পারে এবং এতে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে ইরান-এর বাহিনীর সঙ্গে।
এছাড়া বিকল্প পরিকল্পনায় পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। একইসঙ্গে ইরানের সামরিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে আরও বিস্তৃত বিমান হামলার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে যৌথভাবে পরিচালিত হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা, পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং অভ্যন্তরীণ চাপ তৈরি করা। তবে দীর্ঘ সংঘাতের পরও এসব লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বড় ধরনের হামলার পর পাল্টা জবাব দেয় তেহরান, যার ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা এখনো নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
বর্তমানে উভয় পক্ষের মধ্যে সাময়িক শান্তি বজায় থাকলেও পর্দার আড়ালে নতুন করে সংঘাতের প্রস্তুতি এবং কূটনৈতিক তৎপরতা সমান্তরালভাবে চলতে দেখা যাচ্ছে।
