
ইসলামে কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা ঈদুল আজহা উপলক্ষে পালন করা হয়। কোরআন ও হাদিসে এ ইবাদতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নামাজ আদায় ও কোরবানি করতে।
হাদিসেও কোরবানির গুরুত্ব ও ফজিলত তুলে ধরা হয়েছে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) কোরবানিকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আমল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।
কার ওপর কোরবানি ওয়াজিব?
প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের প্রত্যেক মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়, যদি তিনি ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক হন।
কোন সম্পদ হিসাব করা হবে?
কোরবানির নেসাব নির্ধারণে নিচের সম্পদগুলো গণনা করা হয়—
- নগদ টাকা
- সোনা-রুপা ও অলংকার
- প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি বা বাড়ি
- অতিরিক্ত যানবাহন
- ব্যবসার পণ্য
- অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র
অর্থাৎ, দৈনন্দিন প্রয়োজনের বাইরে যে সম্পদ থাকে, তা নেসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে।
নেসাবের পরিমাণ কত?
কোরবানির জন্য ন্যূনতম সম্পদের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় সোনা বা রুপার মূল্যের ভিত্তিতে—
- সোনা: প্রায় ৮৭.৪৫ গ্রাম
- রুপা: প্রায় ৬১২.১৫ গ্রাম
টাকা বা অন্যান্য সম্পদের ক্ষেত্রে, এই রুপার মূল্যের সমপরিমাণ হলেই কোরবানি ওয়াজিব হবে।
বাংলাদেশে আনুমানিক হিসাব
বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী (রুপার মান ভেদে) প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বা তার বেশি মূল্যের অতিরিক্ত সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব হতে পারে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—
এই হিসাবটি নির্ভর করবে কোরবানির নির্ধারিত দিনগুলোতে (১০–১২ জিলহজ) রুপার বাজারদরের ওপর। দাম পরিবর্তিত হলে নেসাবের পরিমাণও পরিবর্তিত হতে পারে।
একাধিক সম্পদ মিলিয়েও নেসাব পূরণ হতে পারে
কেউ যদি আলাদাভাবে সোনা, রুপা বা টাকা—কোনোটিরই নেসাব পরিমাণ মালিক না হন, কিন্তু সব মিলিয়ে যদি নির্ধারিত পরিমাণে পৌঁছে যায়, তাহলেও তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।
কোরবানির গুরুত্ব
হাদিসে এসেছে, কোরবানির দিনে আল্লাহর কাছে পশু কোরবানি করার চেয়ে প্রিয় আমল আর কিছু নেই। এই ইবাদত আন্তরিকতা ও সন্তুষ্টির সঙ্গে আদায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।