জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপণ্যের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর মতে, এ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বাস্তব চিত্র তার চেয়ে অনেকটাই কম গুরুতর।
মন্ত্রী ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, একটি ট্রাক যদি ২০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে, তাহলে প্রায় ৩০ লিটার ডিজেল লাগে। মূল্যবৃদ্ধির কারণে এতে অতিরিক্ত খরচ হয় প্রায় ৪৫০ টাকা। সে হিসাবে ১০ হাজার কেজি পণ্য পরিবহনে প্রতি কেজিতে বাড়তি খরচ পড়ে মাত্র ৪৫ পয়সা, যা বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ হতে পারে না।
শনিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের জিয়া হল প্রাঙ্গণে বহুমুখী পাটপণ্য মেলা–২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, অনেক সময় বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বাস্তব কারণের চেয়ে গুজব ও অনুমান বেশি প্রভাব ফেলে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্টদের তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীলভাবে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।
রপ্তানি খাতে ধীরগতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এটি হঠাৎ করে হয়নি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যে চাপ তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, সরকার কম জ্বালানিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে এবং গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে এলএনজি আমদানি সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে।
পাটখাত নিয়ে তিনি বলেন, দেশে পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি দপ্তরে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে পলিথিনের ব্যবহার কমানো যায়।
কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানির বদলে পাটপণ্য তৈরি করে রপ্তানি করলে বেশি মূল্য সংযোজন হয় এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। যদিও এ ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, সংসদ সদস্য আবুল কালাম, মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. নুরুল বাসির এবং জেলা প্রশাসক মো. রাহমান।

