যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তি পুনর্বিবেচনা বা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে লন্ডনের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ থেকেই এমন মন্তব্য এসেছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী Rachel Reeves যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সুস্পষ্ট কোনো “এক্সিট প্ল্যান” ছাড়া সংঘাতে জড়ানো বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তার মতে, এই পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
এই মন্তব্যের পরই Donald Trump যুক্তরাজ্যের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজন হলে চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান ইস্যু। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থানের পরও যুক্তরাজ্য সরাসরি সংঘাতে অংশ নেয়নি। প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer একাধিকবার জানিয়েছেন, এটি যুক্তরাজ্যের যুদ্ধ নয় এবং দেশটি এতে সরাসরি যুক্ত হবে না।
লন্ডনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ণ সামরিক সহায়তা দেওয়া হয়নি বলেও জানা যায়। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্য সতর্ক অবস্থান নেয়।
এই অবস্থানকে ওয়াশিংটন ইতিবাচকভাবে নেয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। Donald Trump অভিযোগ করেন, সংকটময় সময়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশিত সমর্থন পায়নি।
এদিকে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরেও এই ইস্যু নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার Eluned Morgan যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা প্রকল্প থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। তার মতে, অনিশ্চিত নীতির অংশীদারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
অন্যদিকে Keir Starmer যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে তিনি একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেন যে, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে যুক্তরাজ্য নিজস্ব অবস্থানেই থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ হলেও বর্তমান পরিস্থিতি নতুন করে কূটনৈতিক ভারসাম্যের পরীক্ষা নিচ্ছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্যের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে কিছুটা অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

