টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ শেষে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে টাইব্রেকারে ভারতকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। এ জয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা সম্মেলন কেন্দ্রে উল্লাসে মেতে ওঠেন। এসময় শিক্ষার্থীরা “দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা” স্লোগান দিয়ে বাংলাদেশের জয় উদযাপন করেন।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মালদ্বীপের রাজধানী মালের ন্যাশনাল ফুটবল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচটি শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল। ম্যাচজুড়ে বাংলাদেশ দল ভারতকে চাপে রাখে এবং একাধিক আক্রমণে গোলের সুযোগ তৈরি করলেও নির্ধারিত সময়ে কোনো দল গোল করতে পারেনি। ফলে ম্যাচ গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়। অতিরিক্ত সময় না থাকায় খেলা সরাসরি পেনাল্টি শুটআউটে গড়ায়। সেখানে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় মার্ক কক্সের শিষ্যরা।
বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতা অনূর্ধ্ব-১৮, অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২০ এই তিন ক্যাটাগরিতে মোট সাতবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ভারত চারবার, নেপাল দুইবার এবং বাংলাদেশ এবারসহ দুবার শিরোপা জিতেছে। এর আগে ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো এই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। সব বয়সভিত্তিক ক্যাটাগরি মিলিয়ে এটি বাংলাদেশ ও ভারতের চতুর্থ ফাইনাল মুখোমুখি হওয়া। এর আগে ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৮, ২০২২ সালে অনূর্ধ্ব-২০ এবং ২০২৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ ফাইনালে বাংলাদেশ পরাজিত হয়েছিল। এবার সেই ধারার পরিবর্তন ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো বয়সভিত্তিক ফাইনালে ভারতকে হারায় বাংলাদেশ।
সাভারের বিরুলিয়ায় প্রায় ৩৬০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্বাধীনতা সম্মেলন কেন্দ্র অডিটরিয়ামে বড় পর্দায় খেলা দেখতে হাজারের বেশি শিক্ষার্থী জড়ো হন। অডিটরিয়ামটি এদিন স্টেডিয়ামের গ্যালারির পরিবেশ পায়। রাত ৯টায় খেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। পুরো ম্যাচজুড়ে তারা স্লোগানে স্লোগানে খেলা উপভোগ করেন। ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’ ও ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ স্লোগানে অডিটোরিয়াম মুখর ছিল। জয়ের পর শিক্ষার্থীরা আনন্দ মিছিল বের করেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, ভারত সরকারের বাংলাদেশবিরোধী অবস্থান, সীমান্তে বাংলাদেশের মানুষ হত্যার ঘটনা, ভারতের কিছু রাজনীতিকের বাংলাদেশবিরোধী মন্তব্য, ধর্মীয় মিথ্যাচারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা এবং বাংলাদেশের স্বৈরাচারী সরকারকে দীর্ঘদিন সহযোগিতা করা ও পতনের পর আশ্রয় দেওয়ার মতো বিষয়গুলো তাদের মধ্যে ভারতবিরোধী মনোভাব তৈরি করেছে। তাদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারে।