ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চারজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের বিরোধিতা, আন্দোলনে অংশ নিতে বাধা দেওয়া, হুমকি প্রদান এবং আন্দোলনকারীদের তথ্য ছাত্রলীগকে সরবরাহের অভিযোগে চার্জ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হবে না— সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দীর্ঘ এই সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়।
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হল এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তনের যে দাবি জানানো হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ-সংক্রান্ত বিষয়ে সিনেট বরাবর সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট।
প্রক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ জানান, ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন— অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা, অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দীন, অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম ও অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান।
এর আগে, গত ২১ ডিসেম্বর ডাকসু শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচ স্থাপনা পরিবর্তনের দাবিতে উপাচার্যের অফিসের মূল ফটক আটকে বিক্ষোভ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারা। একই সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানে বিরোধিতাকারী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তারা।
