ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেইর বোলসোনারোকে রাজনৈতিক অভ্যুত্থানচেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। অবৈধ রাজনৈতিক অভ্যুত্থান ঘটানোর দায়ে তাকে কারাদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যা কয়েক দিনের মধ্যে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে তার দণ্ড কার্যকর হওয়ার আগেই তিনি গ্রেপ্তার হন।
শনিবার (২২ নভেম্বর) ব্রাসিলিয়ার নিজের বাড়ি থেকে সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দেশটির কেন্দ্রীয় পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, তার বিরুদ্ধে পুলিশই একটি প্রতিরোধমূলক গ্রেপ্তারি পরোয়ানার অনুরোধ জানিয়েছিল। যা সুপ্রিম কোর্টের অনুরোধের পর কার্যকর করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে একটি সূত্র জানিয়েছে, বোলসোনারোর বড় ছেলে সিনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারে একটি সমাবেশ আয়োজন করে।
যা সাবেক প্রেসিডেন্টের আবাসিক ভবনের সামনে হয়। আর এই সমাবেশের পরই বোলসোনারোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
২০২২ সালে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার কাছে নির্বাচনে হেরে যান জেয়ার বোলসোনারো। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরও বোলসোনারো ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন।
এই রাজনৈতিক অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগে তাকে চলতি বছরের শুরুতে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারকের একটি বেঞ্চ তাকে এই অভিযোগে অভিযুক্ত করে। এরমধ্যে চারজনই তার বিরুদ্ধে রায় দেন।
রাজনৈতিক অভ্যুত্থান চেষ্টার পাশাপাশি বোলসোনারোর বিরুদ্ধে সশস্ত্র অপরাধী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। বলা হয়েছে, এই সংগঠনের মাধ্যমে জোরপূর্বক ব্রাজিলের গণতন্ত্রকে বাতিল করতে চেয়েছিলেন তিনি।
২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি বোলসোনারোর সমর্থকরা বিভিন্ন সরকারি ভবনে হামলা চালান। ওই হামলার প্রেক্ষিতেই মূলত বোলসোনারোকে সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে বোলসোনারো শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো অস্বীকার করছে। তিনি দাবি করেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েছে তার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
সূত্র : সিএনএন
